Thursday, June 28, 2018

হতাশ সর্মথক, লাভবান জার্মানি





সমর্থক যে দলেরই হোক গ্রুপ পর্ব থেকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ান জার্মানির বিদায় মেনে নিতে পারছেন না কোন ফুটবল প্রেমীই। অথচ সমর্থকদের হতাশার সাগরে ভাসানো এই হার নাকি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করেছে জার্মানিকে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম দ্য লোকালের খবরে বলা হয়েছে, জার্মানির খেলা থাকলেই নাকি শ্রমিকরা নির্দিষ্ট সময়ের আগে কাজ ছেড়ে চলে যায়। এতে উৎপাদক প্রক্রিয়া ব্যহত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্ধনীতিতে। তার একটি হিসাব দিয়েছে তারা। যাতে দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানি ম্যাচেই দেশটির ক্ষতি হয়েছে ২০০ মিলিয়ন ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা।
বিশ্বকাপে এখন আর জার্মানির কোনো খেলা নেই। তাই শ্রমিকরা নিয়মিত কাজে যোগ দেবে। এতে তাদের অর্থনীতিও লাভবান হবে।
বুধবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জার্মানি ২-০ গোলে হেরেছে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে। ‘এফ’ গ্রুপ থেকে তিন ম্যাচের দুটিতে হার এবং একটিতে জয় পেয়েও কোনো লাভ হয়নি, ৩ পয়েন্ট পেয়ে গ্রুপে তলানিতে থেকে আসর থেকে বিদায় নেয় তারা।
জার্মানির এই হারে বিশ্বকাপে আরেকটি অঘটন হয়েছে। এ নিয়ে পাঁচ বিশ্বকাপের চারটিতে চ্যাম্পিয়নরা প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নেয়। ২০০২ সালে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি ১৯৯৮ সালের শিরোপাজয়ী ফ্রান্স। ২০১০ সালে একই দশা হয়েছিল ২০০৬ সালের শিরোপাজয়ী ইতালির। আর ২০১৪ সালের সর্বশেষ বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল ২০১০ সালের শিরোপাজয়ী স্পেন। এবারের বিশ্বকাপে এই তিন ইউরোপিয়ান পরাশক্তির সঙ্গে যোগ দিল চারবারের শিরোপাজয়ী জার্মানিও।

আরো পড়ুন: যে ভুলের কারণে বিদায় হলো জার্মানি

চার বছর আগে জার্মানিকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ জোয়াকিম লো'র এবারের বিশ্বকাপের দল বাছাই নিয়েই সমালোচনা তৈরি হয় আসর শুরুর আগে। আর আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ হওয়ার পর নিশ্চিতভাবে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়বেন তিনি।
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড লিরয় সেইনকে রাখেননি তিনি। গত মৌসুমে এই ফরোয়ার্ড ম্যানচেস্টার সিটির প্রিমিয়ার লিগ বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল দেয়া মারিও গোয়েৎজেকেও দলে রাখেননি তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজান লো। থমাস মুলারকে বসিয়ে মেসুত ওজিলকে খেলালেও আর্সেনাল মিডফিল্ডার দলকে জয় এনে দিতে পারেননি।
২০০৬ থেকে জার্মানির দায়িত্বে থাকা লো দলকে ২০০৮ এর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নিয়ে যান। তার অধীনেই পরবর্তীতে বিশ্বকাপ জেতে জার্মানরা।
তবে লো'র দলের প্রধান কয়েকজন খেলোয়াড়ের ভবিষ্যতে এখন শঙ্কার মুখে।
ম্যানুয়েল ন্যয়ারের বয়স ৩২, স্যামি খেদিরা'র ৩১ আর ওজিল ও মার্কো রয়েসের বয়স ২৯। অর্থাৎ বিশ্বকাপের মূলপর্বে তাদেরকে আর খেলতে নাও দেখা যেতে পারে। তবে লো বলেছেন জার্মানির ফুটবলে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ রয়েছে।
তিনি বলেন, "এই হার কি জার্মান ফুটবলে অন্ধকার অধ্যায় শুরু করবে? আমার মনে হয় না।"
গোলের সুযোগ হাতছাড়া করার মাশুল
গ্রুপ এফ'এর আরেক খেলায় যখন মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতছিল সুইডেন, তখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল জার্মানি।
জার্মানি জিতলে গোল ব্যবধানে মেক্সিকোর বাদ পড়তো বিশ্বকাপ থেকে। কিন্তু তখন উল্টো গোল করে বসে দক্ষিণ কোরিয়া।
তবে কিমের গোল শুরুতে অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেয়া হয়।
তবে ভিডিও রিভিউ করে দেখা যায়, জার্মান মিডফিল্ডার টনি ক্রুসের গায়ে লেগে কিমের কাছে বল আসে। কাজেই বাতিল করে দেয়া হয় অফসাইডের সিদ্ধান্ত আর এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া।
ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া জার্মানদের হয়ে আক্রমণে যোগ দেন গোলরক্ষক ন্যয়ারও।
আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগান টটেনহাম ফরোয়ার্ড সন হিউং-মিন। আক্রমণভাগে থাকা ন্যয়ারের অনুপস্থিতির সুযোগে খালি পোস্টে গোল করে নিশ্চিত করেন ২-০ গোলের জয়।
দুই গোল খেলেও ম্যাচে জার্মানির হতাশা হয়ে থাকবে কয়েকটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করা।
লিয়ন গোরেৎজকার একটি হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক চো হিয়েওন-উ। সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন টিমো উইনারও। প্রায় ১২ গজ দূর থেকে পোস্টের বাইরে শট নেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়া দুই গোল দেয়ার আগে একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন ম্যাটস হামেলসও। ছয় গজ দূর থেকে নেয়া তার হেড চলে যায় পোস্টের উপর দিয়ে।
এই হারের সাথে হতাশাজনক ভাবে শেষ হলো জার্মানির টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।
আবারো চ্যাম্পিয়নদের অকাল বিদায়
- আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপের শেষ পাঁচ আসরের মধ্যে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয়া চতুর্থ দল জার্মানি (২০০২ এ ফ্রান্স, ২০১০ এ ইটালি আর ২০১৪'তে স্পেন)
- বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে জার্মানির বাদ পড়ার ঘটনা ঘটলো দ্বিতীয়বারের মত। ১৯৩৮ সালে শেষবার তারা প্রথম রাউন্ডে বাদ পড়েছিল। আর বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড গ্রুপ পদ্ধতিতে হওয়ার পর থেকে এই প্রথমবার জার্মানির সাথে ঘটলো এমন ঘটনা।
- আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবার গোল করেছে দুটি, যা বিশ্বকাপে কোনো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের জন্য দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের সবচেয়ে কম গোল করার রেকর্ড ফ্রান্সের। ১৯৯৮ এর চ্যাম্পিয়নরা ২০০২'এ একটিও গোল করতে পারেনি।
- বিশ্বকাপে কোনো এশিয়ান দলের সাথে খেলা ছয় ম্যাচে এটিই ছিল জার্মানির প্রথম হার।
- সন হিউং-মিনের গোলটি (৯৫:৫২) বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে জার্মানির সবচেয়ে বেশি সময়ে গোল খাওয়ার রেকর্ড।

আরো পড়ুন : শিরোপাধারীর 'অভিশাপে' ছিটকে পড়লো জার্মানি!
বিশ্বকাপের গত আসরের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-০ গোলের হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়েছে।
এবার বিশ্বকাপে এফ গ্রুপে জার্মানি তিনটি খেলা খেলেছে। কিন্তু জিতেছে মাত্র একটিতে। সেই জয়টাও তারা পেয়েছিল সুইডেনের বিরুদ্ধে খেলার শেষ মুহুর্তে ৯৫ মিনিটে গোল করে।
আবারও বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নের গায়ে অভিশাপ আঘাত করলো।
আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায়, এটি একবিংশ শতাব্দীর অভিশাপ।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০০২ সাল পর্যন্ত দুইবার শিরোপাধারীদের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার ঘটনা ঘটেছিল।
এর একটি ঘটনা ছিল ১৯৫০ সালে। তখন ১৯২৮ এর চ্যাম্পিয়ন ইতালি বাদ পড়েছিল (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ এ বিশ্বকাপ হয়নি)।
আর ১৯৬২'র চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ১৯৬৬ সালে বাদ পড়েছিল পর্তুগাল এবং হাঙ্গেরি থেকে পিছিয়ে থাকার কারণে।
২০০২ সালে জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে উদ্বোধনী খেলাতেই সেনেগালের কাছে গোল খেয়ে ছিটকে পড়েছিল আগের বারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। অথচ সেটাই ছিল সেনেগালের প্রথম বিশ্বকাপ।
২০১০ সালে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হলো। ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইতালি গ্রুপ পর্বের বাধা পেরুতে পারলো না।
চার বছর পর ২০১৪ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
এখন আবার একই ঘটনা ঘটলো। সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মোক্সিকোর কাছে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে জার্মানি, এটা মানুষের ভাবনায় ছিল না।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে হেরে দ্বিতীয় ম্যাচে সুইডেনকে হারিয়ে লড়াইয়ে ফিরেছিল জার্মানরা।
কিন্তু অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে শেষমুহুর্তের গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়তে হলো জার্মানিকে।
বিশ্বকাপের আগে টানা পাঁচ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া কোনো ম্যাচে জয়ী হতে পারেনি। তারাই হারিয়েছে জার্মানিকে।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের সাথে যেন অদৃশ্য এক অভিশাপই লেগে গেছে।

নেইমারের অতি অভিনয় বিপদে ফেলবে ব্রাজিলকে!

ফাউল আদায় করতে অতি অল্পতেই পড়ে যাওয়া এবং আহত হওয়ার ভান করেন নেইমার!!!




পোলিশ রেফারি স্জিমন মারচিনিয়াক শনিবারের জার্মানি ও সুইডেনের উত্তেজনাকর ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজানোর পর সামাজিক মাধ্যমে মানুষের আনাগোনা দারুণভাবে বেড়ে যায়। প্রায় সবার পোস্ট, টুইট বা মন্তব্যেই টনি ক্রুসের শেষ মিনিটের ফ্রি কিকের কথা লেখা হয়। এর পাশাপাশি আরেকটি বিষয়েও পোস্ট করে মানুষ। 'নেইমারের মত কান্না' করেননি বলে প্রশংসা করা হয় ক্রুসের।
পরের দিনই ইনজুরি সময়ের গোলে জয় পাওয়ায় ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিল সমর্থকরাও সেদিন সামাজিক মাধ্যমে অসহানুভূতিশীল মন্তব্যই করেছেন। আর এ থেকেই এবারের বিশ্বকাপে নেইমারের অবস্থাটা বোঝা যায়।
এবারের বিশ্বকাপে সবাই বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়ের সমালোচনায় আগ্রহী।
গত কয়েকসপ্তাহে নেইমারকে নিয়ে তৈরি করা হাস্যরসাত্মক পোস্টগুলো ছড়িয়ে পরেছে সামাজিক মাধ্যমে।
যে বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা চলছে সেটি হলো, ফাউল আদায় করতে নেইমারের অতি অল্পতেই পড়ে যাওয়া ও আহত হওয়ার ভান করা।
সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে রিও ডি জেনিরো'র একটি পানশালায় এমনও ঘোষণা দেয়া হয় যে, 'নেইমারের প্রতিটি ডাইভের জন্য একটি করে পানীয়' দেয়া হবে বিনামূল্যে।
গত বছর দুই শ' মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের বিনিময়ে বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে যোগ দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হন নেইমার। বিলাসবহুল জীবনযাত্রার কারণে অনেকেই তাকে কিছুটা নেতিবাচকভাবে দেখেন। যদিও ব্রাজিলে আরো অনেকে মিলিয়নিয়ার ফুটবলারই আছেন।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই নেইমার তার মেজাজ হারান। কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচের পর মাঠে তার কান্নার সমালোচনার জবাবে ক্ষুদ্ধ হয়ে ইন্সটাগ্রাম পোস্টে লেখেন, "টিয়া পাখিও কথা বলতে পারে।"
কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে রেফারির সাথে অসদাচরণের কারণে হলুদ কার্ড দেখেন নেইমার। ভিডিও অ্যাসিস্টান্ট রেফারির রিভিউর পর তার একটি পেনাল্টি আবেদন নাকচ হয়ে যায়। যেখানে নাটকীয় ব্যবহারে রেফারিকে প্ররোচণার চেষ্টার অপরাধে লাল কার্ডও দেখতে পারতেন তিনি। তবে ওই ম্যাচে গোল করে অনেক সমালোচনারই জবাব দেন তিনি।
কোস্টারিকার বিপক্ষে ওই গোলটি ছিল নেইমারের ৫৬তম আন্তর্জাতিক গোল। এর ফলে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলস্কোরারের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে আসেন তিনি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী রোমারিওকে টপকে তিনি এই স্থান দখল করেন।
এই অর্জনের পর নেইমারের প্রশংসাই করেছেন রোমারিও। ইন্সটাগ্রামে এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার লিখেছেন, " নেইমার তুমি যা পারো আর যা করতে সক্ষম তা এই বিশ্বকাপে এখনো দেখাতে না পারলেও আমি বিশ্বাস করি তুমি পারবে।"
১৯৭০ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ও ব্রাজিলের অন্যতম সম্মানিত ফুটবল বিশেষজ্ঞ টোস্টাও মনে করেন অতি অভিনয়ের কারণে নিজেকে ও দলকে বিপদে ফেলতে পারেন নেইমার।
কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচের পর টোস্টাও লেখেন, "তিনি মাঠে অভিযোগ করতেই থাকেন আর মেজাজও প্রদর্শন করেন। এরকম ক্ষেত্রে সবসময়ই কার্ড দেখার সম্ভাবনা থাকে।"
"ওর মাঠের বাইরের কাজকর্মের চেয়ে মাঠের ভেতরের আচরণ আমাকে বেশি ভয় পাওয়ায়।"
সমস্যা হলো নেইমার যাই করেন তা নিয়েই বিশ্লেষণ শুরু হয়ে যায়।
কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচের পর তার কান্না নিয়ে মনোবিশারদ থেকে শুরু করে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এক্সপার্ট, সবাই নানাবিধ আলোচনা করেছেন ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমে।
এমনকি ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা ডা'সিলভা, যিনি বর্তমানে কারাবন্দী রয়েছেন, ব্রাজিলের একটি টেলিভিশনের ক্রীড়া অনুষ্ঠানে বার্তা পাঠান।
লুলা লেখেন, "নেইমারের কান্নার দৃশ্য থেকেই তার মানসিক অবস্থার প্রমাণ পাওয়া যায়।"

আরো পড়ুন : শুধু নেইমার নন, এমন নাটক আরো অনেকেই করেছেন

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে কোস্টারিকার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে ব্রাজিল। এই ম্যাচে জয়ের ফলে শেষ ১৬'র দৌড়ে এগিয়ে আছে তারা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনায় নেইমারের পড়ে যাওয়ার নাটক।
ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৭৮ মিনিটে। কোস্টারিকার ডি বক্সে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় গঞ্জালেজের সাথে কোনো সংঘর্ষ না হওয়ার পরও মাটিতে পড়ে যান নেইমার, যেন বড় ধরণের কিছু একটা হয়েছে। রেফারিও বুঝতে পারেননি যে এটি ছিল নেইমারের অভিনয় মাত্র, ফলে বাঁশিও বাজান তিনি। কিন্তু কোস্টারিকার খেলোয়াড়দের তীব্র প্রতিবাদে ভিএআরের সহায়তা নেন রেফারি। আর রিপ্লেতে দেখা গেলো রীতিমত নাটক করেই পড়ে গেছেন নেইমার। তখন বাতিল হয়ে যায় পেনাল্টির সুযোগ। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে নেট দুনিয়ায়।
তবে এই ঘটনা এবারই প্রথম নয়। একমাত্র নেইমারই এমন কাণ্ড করেননি, এই তালিকায় আছে আরো অনেকে। জানুন-
ঈশ্বরের হাত : এই তালিকায় প্রথমই আছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে তার অসাধারণ পারফরমেন্সে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তবে কোয়াটার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেয়া ম্যারাডোনার গোলটি ছিল বিতর্কিত। পেনাল্টি এরিয়ায় বাম হাতের ছোঁয়ায় গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা! 'গোলটি পরবর্তী সময়ে ‘ঈশ্বরের হাতে গোল’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
সুয়ারেজের নাটক : লুইস সুয়ারেজ। গত বিশ্বকাপে কামড়ের জন্য কুখ্যাত ছিলেন তিনি। তবে তার আগের বিশ্বকাপে ভিলেন হিসেবে পরিচিত ছিলেন উরুগুয়ের এই তারকা ফুটবলার। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে প্রায় পৌঁছেই গিয়েছিল ঘানা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঘানার স্ট্রাইকার আসামোয়া গিয়ানের সাথে চ্যালেঞ্জে সুয়ারেজের হাতে আঘাত পাওয়ার নাটকে পেনাল্টি পায় উরুগুয়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে সেমিফাইনালে পৌছে উরুগুয়ে। পরে অবশ্য সুয়ারেজকে আঘাত পাওয়া হাতে জয়োল্লাস করতে দেখা যায়।
বল লেগেছিল হাটুতে, ব্যাথা মুখে : ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রিভাল্ডোর কাণ্ড ধরা পড়েছিল রিপ্লেতে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে স্ট্রাইকার হাকান উনসালকে তার কারণে লাল কার্ড দেখানো হয়। কী করেছিলেন তিনি? কিছুই না। পুরো নাটক করেছিলেন রিভাল্ডো। কর্নার কিক নিতে যাচ্ছিলেন রিভাল্ডো। বলটি কিক করে তার দিকে দিচ্ছিলেন উনসাল। তার ছোড়া বলে আঘাত পাওয়ার নাটক করেন রিভাল্ডো। মুখ চেপে পড়ে যান। সাথে সাথেই তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। পরে ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি আসলে লেগেছিল রিভাল্ডোর হাঁটুতে, মুখে নয়! এই ঘটনার জন্য জরিমানার মুখে পড়তে হয় রিভাল্ডোকে।
ক্লিন্সম্যানের ডাইভ : সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন পশ্চিম জার্মানির জার্গেন ক্লিন্সম্যান। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটক করেন তিনিও। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার পেদ্রো মোনজোনের সাথে চ্যালেঞ্জে শূন্যে লাফিয়ে উঠে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়েন তিনি। তার এই নাটক এতোটাই সত্যি মনে হয়েছিল যে রেফারি সাথে সাথেই মোনজোনকে লাল কার্ড দেখিয়ে দেন। বিশ্বকাপে সেইবার প্রথম কোনো ফাইনাল ম্যাচে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। পরে পেনাল্টি থেকে পাওয়া একমাত্র গোলে শিরোপা জিতে পশ্চিম র্জামানি।
রোনালদোর চোখের ইশারা : ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচ ৬২ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ছিল। তখন রেফারি হোরাসিয়া ইলজোন্দোকে পটানোর চেষ্টা করেছিলেন রোনালদো। কেন করেছিলেন? তিনি রেফারিকে ওয়েন রুনিকে সরিয়ে দেয়ার জন্য পটিয়েছিলেন। কারণ এই ইংলিশ স্ট্রাইকার পর্তুগালের রিকার্দো কারভোলোর সামনেই দাড়িয়ে ছিলেন। এরপর রেফারি রুনিকে সরিয়েও দিয়েছিলেন। পরে রোনালদো চোখ মেরে কোচ লুইস স্কোলারিয়াকে সেটি বুঝিয়ে দেন। ওই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে জয়লাভ করে পর্তুগাল। কিন্তু পরে টিভি ক্যামেরায় সে ঘটনা ধরা পড়লে সমালোচনার মুখে পড়েন রোনালদো।